দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬ জন শিশু ও ৪৪ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৯১ জন পথচারী, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ১৩ শতাংশ।
একই সময়ে দেশে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলি আরোহী ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান ও মিশুক) যাত্রী ১১২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। এর মধ্যে ১০৯টি দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে ধাক্কা এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আইন না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাসসেবা চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ এবং সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনকে সমন্বিত করে অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন।
প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এমএম/